গোল্ডেন ভিসা দিয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা শতাধিক দেশের

বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো অর্থনীতিতে প্রাধান্য পায় প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)।

বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো অর্থনীতিতে প্রাধান্য পায় প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)। এর বাইরে বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গোল্ডেন ভিসার মতো বিকল্প জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, কানাডা, সুইজার‍ল্যান্ডসহ শতাধিক দেশ এ ধরনের ভিসা দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সম্পদশালী ব্যক্তি গোল্ডেন ভিসার মাধ্যমে এসব দেশে সম্পদ স্থানান্তরও করছেন। খবর দ্য ন্যাশনাল।

সংশ্লিষ্ট দেশে বিনিয়োগের শর্তে গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়। আবেদনকারী সাধারণত রিয়েল এস্টেট বা ব্যবসার মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারেন। ভিসার প্রকারভেদে আবেদনকারীকে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হয় বলে জানিয়েছে বিনিয়োগ অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের পছন্দের দেশে বসবাসের সুযোগ দেয়। এ ভিসাধারীরা পূর্ণ আইনি অধিকারসহ সে দেশে বসবাস, কাজ, শিক্ষাগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। গোল্ডেন ভিসাধারীর পরিবারের সদস্যরাও সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।

বর্তমানে ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়। তবে ৮ লাখ ডলার বিনিয়োগের শর্তে গোল্ডেন ভিসা দেয়ার নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটি। এ ভিসা পেতে আবেদনকারীকে আলাদা করে গুনতে হবে ৫০ হাজার ডলার। এ ভিসার আওতায় গ্রিন কার্ডের মতোই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ মিলবে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইউএই ২০১৯ সালে দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি ভিসা চালু করে। এ ভিসাধারীরা স্পন্সর ছাড়াই দেশটিতে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পান। ২০ লাখ দিরহাম বা তার বেশি মূল্যের সম্পত্তি কিনলে একজন বিনিয়োগকারী গোল্ডেন ভিসার যোগ্য হবেন। একক বা একাধিক সম্পত্তি মিলিয়ে এ শর্ত পূরণ করা যায়। তাছাড়া ইউএইতে মাসিক ৩০ হাজার দিরহাম (৮ হাজার ১৬৮ ডলার) মূল বেতনে কর্মরতরাও গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কমপক্ষে পাঁচ বছর বসবাস ও মাসিক ২ হাজার বাহরাইনি দিনার (৫ হাজার ৩০৬ ডলার) আয় থাকলে বাহরাইনের গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়। ২০২২ সালে চালু হওয়া এ ভিসার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বসবাসের সুবিধা মেলে। এছাড়া মাসিক ৪ হাজার দিনার আয়সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

১৮ হাজার ডলার থেকে ১ লাখ ৪০ লাখ ডলারের বিনিময়ে বিভিন্ন মেয়াদে রেসিডেন্ট ভিসা পাওয়া যায় থাইল্যান্ডে। দেশটিতে ব্রোঞ্জ ও গোল্ড কার্ডে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। তবে প্লাটিনাম ও ডায়মন্ড কার্ডে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে স্পন্সর করা যায়। এছাড়া থাইল্যান্ড দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা ১০ বছরের বসবাস ও কর সুবিধা দেয়। এতে সর্বশেষ দুই বছরে আবেদনকারীর কমপক্ষে ৮০ হাজার ডলার বার্ষিক আয় থাকতে হবে।

রেসিডেন্সি-বাই-ইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচির আওতায় ইন্দোনেশিয়ার ৫-১০ বছর মেয়াদি ভিসা পাওয়া যায়। পাঁচ বছরের জন্য ভিসা পেতে কমপক্ষে ২৫ লাখ ও ১০ বছরের জন্য ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হয়।

যুক্তরাজ্যের ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসা বিনিয়োগকারীদের নতুন ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। তিন বছর পর দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যায়।

নিউজিল্যান্ডের অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসার জন্য আবেদনকারীরা ৪ বছরে ২৮ লাখ থেকে ৮৫ লাখ ডলারের মধ্যে বিনিয়োগ করলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন।

কানাডা স্টার্ট-আপ ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের নতুন ব্যবসা শুরু ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। এর জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ ২ লাখ ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে হয়।

এসব দেশ ছাড়া সুইজারল্যান্ড, মাল্টা, গ্রিস, সাইপ্রাস, ইতালি, ডমিনিকা, গ্রানাডা ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে বিভিন্ন অংকের বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়।

আরও